মানসিক দুর্বলতা দূর করার উপায় | মানসিক অস্থিরতা কেন হয়

মানসিক দুর্বলতা দূর করার উপায়, মানসিক অস্থিরতা কেন হয় - মানসিক চাপ কমাতে হলে শুরুতে চাপ হওয়ার কারণগুলো জানতে হবে। এরপর সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দেশি ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে মানসিক দুর্বলতা দূর করার উপায় | মানসিক অস্থিরতা কেন হয় নিয়ে আলোচনা করব।

মানসিক দুর্বলতা দূর করার উপায় | মানসিক অস্থিরতা কেন হয় সম্পর্কে আরো জানতে গুগলে সার্চ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েব সাইটে অন্যান্য পোস্টগুলো পড়তে পারেন। তো চলুন আমাদের আজকের মূল বিষয়বস্তুগুলো এক নজরে পেজ সূচিপত্রতে দেখে নেয়া যাকঃ

সুপ্রিয় দর্শকবৃন্দ মন ভালো না থাকলে আমাদের শরীর ভালো থাকে না। আজকে আমি আপনাদের জানাবো মানসিক দুর্বলতা দূর করার উপায়। মানসিক অস্থিরতা কেন হয়? তার আগে জানতে হবে আসলে আমাদের মন কি?

মানসিক দুর্বলতা দূর করার উপায় | মানসিক অস্থিরতা কেন হয়

আমরা অনেকেই জানি মন হলো মস্তিষ্কের একটি কার্যকলাপ ছাড়া আর কিছুই না। আমাদের শরীরের যেমন নানা ধরনের কার্যকলাপ আমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে হাত নাড়িয়ে কথা বলি এই সব কিছুই একটি মস্তিষ্কের ক্রিয়া। ঠিক তেমনি মনের যে কার্যকলাপ তা ব্রেনের ই একটি ফাংশন ছাড়া আর কিছুই না।

তবে মজার ব্যাপার এই যে মন দেখা না গেলেও আমাদের নানা রকমের ব্যবহারের মাধ্যমে বোঝা যায় আমাদের মন এখন কি অবস্থায় আছে। অর্থাৎ আমরা যদি মনের দিক থেকে খুশি থাকি তাহলে আমার আচার আচরণ আমার পোশাক পরিচ্ছদ অন্যদের সাথে কথোপকথন এসব কিছুর মাধ্যমে প্রকাশ পাবে। আবার আমাদের মন যদি ভালো না থাকে সেটাও প্রকাশ পাবে আমাদের আচার-আচরণ কথাবার্তা এবং পোশাক পরিচ্ছদের মাধ্যমে।

আমাদের শরীরে যেমন নানা ধরনের রোগ আছে। তেমনি আমাদের মনেরও নানা ধরনের রোগ আছে ক্ষেত্রে একটা জিনিস বলে নেওয়া ভালো যে আমাদের শরীর ও মন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। মন ভালো না থাকলে শরীর ভালো থাকে না আর শরীর ভালো না থাকলে মন ভালো থাকে না। তাই বোঝা যায় মনের সুস্থতা শরীরের সুস্থতা একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

মানসিক অস্থিরতা বা দুর্বলতা এটা আসলে কি আগে আমাদের এটা চিহ্নিত করতে হবে। মনের কার্যকলাপের ব্যাহত হওয়া এর ফলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাই মানসিক দুর্বলতা। আমাদের স্বাভাবিক যে চিন্তাভাবনা সেটার মধ্যে যে পার্থক্য দেখা দেয় তাই মানসিক দুর্বলতা। বাংলাদেশের প্রায় ১৬% লোক মানসিক দুর্বলতায় আক্রান্ত।

তার মধ্যে এক শতাংশ লোক জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত। যেমন সিজোফ্রেনিয়া। বাকি ১৫% লোক আপনার আমার মত বিষন্নতা, ডিপ্রেশন প্রভৃতি সমস্যায় ভোগেন। তবে বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় মানসিক রোগ সেরকম কোন সমস্যাই নয়।

মানসিক অস্থিরতা কেন হয়

মানসিক অস্থিরতা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে তবে বিশেষ কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো- প্রথমেই অনেকেই আছে যারা ছোটবেলা থেকেই যা চায় বাবা-মার কাছে তাই পেয়ে থাকে।

বাবা-মা ও সে সবকিছুই দিয়ে থাকেন তার সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে। সমস্যাটা শুরু এখান থেকেই। বড় হওয়ার পর তার সেই অভ্যাস থেকে যায়। তারপর কোন কিছু যদি সে চায় আর সেটা যদি সে না পায় তাহলে সে মানসিক অস্থিরতায় ভুগবে। এটি একটি বিশেষ কারণ মানসিক অস্থিরতার।

মানসিক অস্থিরতা হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হল প্রথম কারনে ঠিক উল্টোটা ছোটবেলা থেকেই অনেক অনেক কিছুই না পেয়ে আবার কখনো কিছু বলতে গিয়ে তাদের বাবা মা থামিয়ে দেওয়া তাদের মনের ভাব প্রকাশ করা বা তাদের মনের ইচ্ছা পূরণ না হওয়া একটি কারণ মানসিক অস্থিরতার।

তৃতীয়ত আধুনিক সব ডিভাইসসমূহ মানসিক অস্থিরতার একটি বিশেষ কারণ যেমন মোবাইল কম্পিউটার টিভি এসবের মাধ্যমে মানুষ মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব না করে কথা না বলে এখানে সময় কাটায়। যার মাধ্যমে যার মধ্যে তাদের মধ্যে বিষন্নতা সৃষ্টি হয়। প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাওয়া মানসিক অস্থিরতার একটি বিশেষ কারণ আরো অনেক কারণ আছে মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার।

মানসিক চিন্তা দূর করার উপায়

মানসিক চিন্তা দূর করতে হলে আমাদের নিয়মিত এক্সারসাইজ করা উচিত। বন্ধু-বান্ধব পরিবারের সদস্যের সঙ্গে বেশি করে সময় কাটানো উচিত। মোবাইল কম্পিউটার ইত্যাদির ব্যবহার কমানো উচিত। প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে তার সৌন্দর্য দেখে আমরা মানসিক চিন্তা দূর করতে পারি।

মানসিক ভয় দূর করার উপায়

মানসিক ভয় দূর করতে হলে আমাদের অবশ্যই নেতিবাচক চিন্তা গুলো দূর করতে হবে। আমরা পারবো না কিভাবে করব এসব চিন্তা আমাদের করা যাবে না। নেতিবাচক ভাবনা মানসিক ভাইয়ের মূল কারণ। মানসিক ভয় দূর করতে হলে আমাদের অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে নিজের প্রতি।

জীবনে চলার পথে যে কোন ধরনের সমস্যা আমি নিজেই সমাধান করতে পারব। এই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে প্রত্যেক মানুষের মাঝে তাহলেই সে মানুষের ভয় দূর করতে পারবে।

বাজে চিন্তা দূর করার উপায়

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবন আগের থেকে অনেক আরামদায়ক। তারপরও আমরা বাজে চিন্তা করতেই থাকি। যেমন কোন শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে ভয় পায়। যে আসলে আমি কিভাবে করব? পারব কি পারব না এটা নিয়ে খুব একটি বাজে চিন্তা করে। 

আসলে বাজে চিন্তা না করে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সমস্যার সমাধান কিভাবে করব সেই নিয়ে চেষ্টা করা এটা আমাদের বাজে চিন্তা দূর করতে সাহায্য করবে। জীবনের যেকোনো ধরনের সমস্যা সেটা এড়িয়ে না গিয়ে সেটা মোকাবেলা করার জন্য চেষ্টা করতে হবে তাহলে আমরা বাজে যে চিন্তা থেকে দূরে থাকবো এটাও বাজে চিন্তা দূর করার একটি বিশেষ উপায়।

মানসিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার ১০টি শ্রেষ্ঠ উপায়

বর্তমান সময়ে আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে টিকে থাকতে হলে মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়া খুবই জরুরী। আমরা যদি ভালো করে চিন্তা করি মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায় যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সব ধরনের চাপের মুখোমুখি হতে পারি এবং এগিয়ে যেতে পারি।

তার আগে জানতে হবে মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়া আসলে কি? কোন মানুষ মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়া বলতে বোঝায় তার মন এমন অবস্থায় আছে যে জীবনে যেকোনো ধরনের সমস্যা ব্যর্থতা, চাপ আসলে তা সে সহ্য করতে পারবে এবং মোকাবেলা করতে পারবে। মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষ কঠিন পরিস্থিতি খুব ঠান্ডা মাথায় পরিচালনা করে।

সব সময় খুশি থাকে এবং তার সামাজিক জীবনেও খুব ভালো হয়। ধরনের মানুষের সাথে সবাই বন্ধুত্ব করতে চায় কারণ তারা অন্যদের জীবনের খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তাদের সাহায্য করে।

মানসিকভাবে শক্তিশালী লোকেরা তাদের কষ্টটা লুকিয়ে রাখতে দক্ষ। মানসিকভাবে শক্তিশালী লোকেরা কখনোই নিজেকে সন্দেহ করে না যে আমি এটা পারব না। এরকম কখনো চিন্তা করেনা। যা সব ধরনের ভয় ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার শক্তি দেয়। 

চলুন তাহলে দেখি মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার ১০ টি উপায়

  1. মানসিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করার প্রথম উপায় হল আত্মবিশ্বাসী হওয়া। জীবনে আত্মবিশ্বাসী হতে গেলে প্রথমে যেটা করবেন তাহলে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। কারণ নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। নিজেদেরকে বটগাছ মনে না করে ঘরের কোণে থাকা তুলসী গাছ হয় ভালো কারণ তার প্রচুর গুনাগুন রয়েছে। এরফলে নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি আত্মবিশের জন্মাবে।
  2. দ্বিতীয়ত পূর্বের কোন কাজের জন্য অনুতাপ করা যাবে না। যত বড় ভুলই হোক না কেন সেটা নিয়ে চিন্তা দুশ্চিন্তা মন খারাপ করা যাবে না এটাকে স্মার্টলি এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এটি একটি বিশেষ উপায় মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার।
  3. তৃতীয়ত জীবনে যত বড় পরিবর্তন আসুক না কেন সেটা সানন্দে গ্রহণ করা। কেননা আমাদের এই ক্ষণিকের জীবনে একমাত্র সত্য হলো পরিবর্তন। যে জীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে না সে কখনোই মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে না। তাই মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে গেলে পরিবর্তনকে আমাদের গ্রহণ করতেই হবে।
  4. চতুর্থ আমাদের কখনোই সবার মন যুগিয়ে চলার জন্য কাজ করা উচিত নয়। কারণ একজন মানুষ কখনই সবার মন যুগিয়ে চলতে পারে না। যে আসলে সবাইকে খুশি করতে চায় সে আসলে কাউকেই খুশি করতে পারে না। তাই জায়গা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিনয়ের সাথে না বলতে শিখুন এটি মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে প্রত্যেককে।
  5. হিসাব নিকাশ কোষে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেকোনোখানে ঝুঁকি নিতে ভয় না পাওয়া একটি বিশেষ উপায় মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার।
  6. অতীত নিয়ে কখনোই পড়ে থাকা যাবে না। বা অতীতের কথা চিন্তা করে ভবিষ্যৎ কে ধ্বংস না করা এটি একটি উল্লেখযোগ্য দিক মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার।
  7. একই ভুল বারবার না করা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার একটি বিশেষ উপায়।
  8. মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হলে অবশ্যই মানুষের সফলতা দেখে ঈর্ষা করা যাবে না।
  9. মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার আরেকটি উপায় হল :কোন কাজে ব্যর্থ হলে এখানে হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বরং বারবার চেষ্টা করে যেতেই হবে সফলতা না আসা পর্যন্ত এটি একটি মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার উপায়।
  10. মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার আরেকটি উপায় হল নিজের সঙ্গে নিজের সময় কাটানো এটাতে বিরক্তিবোধ না করে নিজেকে নিজের সময় দিয়ে নিজেকে নিয়ে চিন্তা করা এটি একটি বিশেষ দিক মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার।

নিজেকে কন্ট্রোল করার উপায়

মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে তার মন। নিজের মনকে কন্ট্রোল করতে না পারলে জীবনে কখনো সফলতা পাওয়া যাবে না। পৃথিবীতে ১০০ ভাগের মধ্যে শুধুমাত্র ৩০ ভাগ লোক নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে তারা সাফল্যতার চূড়ায় পৌঁছে গেছে। বাকি ৭০ ভাগ লোক তাদের মনকে কন্ট্রোল করতে পারেনি এর ফলে তারা এখনো পিছিয়ে। আমাদের মন সব সময় সহজ কাজকে খোঁজে আনন্দের জন্য।

মন কখনো ই কঠিন কাজ করতে চায় না। কঠিন কাজের মধ্যে যে সফলতা লুকিয়ে আছে তা না করলে কখনোই পাওয়া যাবে না। মনকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের অবসর সময়ে বই পড়তে হবে।

নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। মোবাইল টেলিভিশন কম্পিউটার এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে। এসব অভ্যাস এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এসব কিছুই মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়।

মানসিক অস্থিরতার ঔষুধ

ডিলিটা একটি ঔষধ মানসিক অস্থিরতার। মানসিক অস্থিরতার ঔষধ সেবন করতে হলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ওষুধ সেবন করা আমাদের উচিত নয়।

পরিশেষে বলা যায় যে যারা মানসিক ভাবে শক্তিশালী তারা কখনোই নিজের কাজের সফলতা সঙ্গে সঙ্গে আশা করে না এটি দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হলে আমাদের অবশ্যই অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজের মনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এভাবেই আমরা মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে পারি যা আমাদের ভবিষ্যতে সফলতা পেতে সাহায্য করবে।

আপনার আসলেই দেশি ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। মানসিক দুর্বলতা দূর করার উপায় | মানসিক অস্থিরতা কেন হয় এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url