মেছতা দূর করার ১০টি উপায় | মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায়

মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত মুখের ত্বকের সঠিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন। মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায় জান্তে চান? মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে পড়ুন

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দেশি ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে মেছতা দূর করার ১০টি উপায় | মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

মেছতা দূর করার ১০টি উপায় | মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে আরো জানতে গুগলে সার্চ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েব সাইটে অন্যান্য পোস্টগুলো পড়তে পারেন। তো চলুন আমাদের আজকের মূল বিষয়বস্তুগুলো এক নজরে পেজ সূচিপত্রতে দেখে নেয়া যাকঃ

সুপ্রিয় দর্শকবৃন্দ আজকে আমি আপনাদের জানাবো মেছতা দূর করার উপায়। মেছতা সাধারণত তিরিশ বছরের বেশি মহিলা বা পুরুষের হয়ে থাকে। দাগহীন মুখ মানুষের আত্মবিশ্বাসের এর মূল ভিত্তি। মেছতা হলে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। মুখে যখন দাগ হয় তখন আমাদের নিজেরই কেমন জানি লাগে তাই না। চলেন আজকে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানি।

মেছতা দূর করার ১০টি উপায় | মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায়

প্রথমেই আমরা জানবো মেছতা আসলে কি?

মেছতা হল মুখের ওপর কপালে নাকে নাকের পাশে এক ধরনের বাদামি বা কালো দাগ। আবার এক কথায় বলা যায় মুখের ওপরে কালো দাগই মেছতা।

তারপর আমরা জানবো মেছতা আসলে কেন হয়?

মেছতা হওয়ার প্রধান কারণ হলো সূর্যের ক্ষতিকর  রশি তবে আরো অনেক কারণ আছে মেছতা।  হওয়ার। আমাদের মা খালারা যারা ঘরে রান্না করেন তাদেরও কিন্তু অতিরিক্ত তাপের কারণে মেছতা হচ্ছে।

মোবাইল ফোন কম্পিউটার আধুনিক আরও প্রযুক্তির ক্ষতিকারক রশির কারণেও মেছতা হয়ে থাকে। আবার যারা মিডিয়ার লাইটে কাজ করেন তাদেরও মেছতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হরমোন। গর্ভবতী অবস্থায় কিছু হরমোন অনেক বেড়ে যায় আবার কিছু হরমোন অনেক কমে যায় এর ফলে মেছতা হয়ে থাকে। আবার বাচ্চা হওয়ার পর কিছুটা কমে আসলেও সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না।

এছাড়াও জন্ম বিরতি করণ যে পিল আমাদের দেশের  মায়েরা ও বোনেরা নিচ্ছেন এর কারণেও মেছতার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। মেছতা হওয়ার আরেকটি বিশেষ কারণ হল রং ফর্সাকারি ক্রিম এই রং ফর্সাকারি ক্রিম ব্যবহারের ফলে খুব তাড়াতাড়ি অনেকেই ফর্সা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এর ফলে মুখে মেছতা চলে আসতেছে। এটি ভয়ংকর ক্ষতি করতেছে আমাদের ত্বকের।

মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায় 

আমাদের দেশের মা খালা ও বোনেরা যারা অনেক সময় নিয়ে আমরা রান্না করি তাদের মেছতা দূর করার একটি প্রথম  উপায় হল আপনার হাতের কাছে একটি ভেজা কাপড় রাখুন আর একটু পর পর এটি আলগা করে মুখে চেপে দিন।

তাহলে মুখের তাপমাত্রা কমে যাবে এবং আপনার যদি ঠান্ডার সমস্যা না থাকে তাহলে আপনি এক টুকরা বড় আলতো করে মুখে দিতে পারেন এতে আপনার আর মুখের তাপমাত্রা ঠিক থাকবে মেছতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

আপনার যদি হরমোন জনিত সমস্যা থাকে তাহলে হরমোনের লেভেল অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এটা আপনাকে মেছতা দূর করতে সাহায্য করবে।

মেয়েরা যারা ঘরের বাইরে কাজ করেন বা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যান তারা রোদে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন টা লাগিয়ে নিবেন। যদি সান স্ক্রিম কেনার সামর্থ্য না থাকে তাহলে স্কাপ, টুপি,  ছাতা ইত্যাদি দিয়ে যতটা সম্ভব রোদ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।

জন্ম বিরতি করণ পিল না খেয়ে অন্য কোন পদ্ধতি গ্রহণ করে মেয়েরা মেছতা দূর করতে পারে। এরপর আসি আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এটা হল রং ফর্সা কারী ক্রিম যেটা আমাদের ত্বকের অনেক ক্ষতি করে সেটা ব্যবহার না করে আমরা মেছতা দূর করতে পারি বা এটাও একটা মেছতা দূর করার বিশেষ উপায়।

মেছতা জনিত জায়গায় আমরা পাতি লেবু হালকা করে ঘষে দিয়ে সেটা শুকানোর পর ধুয়ে ফেলবো এটাও একটি কার্যকরী উপায় মেছতা দূর করার। প্রতিদিন কাঁচা হলুদ বেটে মুখে লাগিয়ে ১০ হতে ১৫ মিনিট রাখার পর সেটা ধুয়ে ফেলতে হবে এটিও একটি উপায় মেছতা দূর করার।

পাকা টমেটো এটিও কেটে আমরা যদি মুখে ভালোভাবে লাগাই এর ফলেও মেছতা দূর হয়। আরো অনেক প্রাকৃতিক উপায় আছে মেছতা দূর করার যেমন পাকা পেঁপে ধনে পাতা বাটা ও কাঁচা পিয়াজের রস মুখে লাগিয়েও মেছতা দূর করা যায়।

তবে মেছতা দূর করতে হলে মেয়েদের অবশ্যই অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। যেমন ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিম বা সান্স প্রোটেকশন কিছু ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া রান্না করতে গেলে অবশ্যই হাতের কাছে বরফের টুকরো অথবা ভেজা টাওয়াল রাখতে হবে। সেটা দিয়ে মুখে একটু পর পর লাগাতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে মেয়েদের সচেতনতা বৃদ্ধি মেয়েদের মেছতা দূর করার সহজ উপায়।

চিরতরে মেছতা দূর করার উপায়

চিরতরে মেছতা দূর করতে হলে আমরা হাইড্রোকুইনেন ব্যবহার করতে পারি যা আমাদের মেছতা চিরতরে দুর করতে সাহায্য করবে। অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। এই হাইড্রোকুইনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা রয়েছে। যেমন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ২% এর বেশি হাইড্রোকুইনেন যুক্ত প্রোডাক্ট  ব্যবহার করতে পারবেন না।

একটানা দীর্ঘদিন একটি ব্যবহার করা যায় না যেমন একটানা তিন মাস ব্যবহারের পর মাঝখানে একমাস গ্যাপ দিতে হয় প্রয়োজনে আবার এটি ব্যবহার করতে হবে এভাবেই ব্যবহার করতে হবে হাইড্রোকুইনেন।

এজলেইক এসিড একটি শক্তিশালী উপাদান মেছতা চিরতরে দূর করার। এটি আপনি একটানা সারা জীবন ব্যবহার করতে পারবেন এটার কোনো সাইড ইফেক্ট নাই। চিকিৎসা পত্র ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারবেন। রেটিনল এটি একটি বিশেষ উপাদান মেছতা চিরতরে দূর করার।

কিছু আধুনিক পদ্ধতি আছে যেমন কিউসেস লেজার অথবা পিক লেজার করেও আমরা ম্যাচটা দূর করতে পারি। তবে আমরা মেছতাকে প্রতিরোধ করতে পারি আমাদের সচেতনতার মাধ্যমে এজন্য আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে হবে।

মেছতা  দূর করার ক্রিমের নাম

মেছতা দূর করার কিছু ক্রিমের নাম যা  চিকিৎসকগণ পরামর্শ দিয়ে থাকে। আমরা এগুলো ব্যবহার করে মেছতা, দূর করতে পারি। যেমন ট্রাইম এল এ, এ এম ক্রিম, মেলাটি্রম ক্রিম এসব ব্যবহারের ফলে মেছতা দূর হয়।

মেছতা দূর করার ঔষুধ

মেলানো, টিভিটা মেলাস না, ফোনা ক্রিম, এসব দিয়েই ম্যাচটা চিরতরে দূর করা যায়।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায় যে মেছতা দূর করতে হলে প্রধানত আমাদের সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি যা আমাদের ত্বকের জন্য খুব ক্ষতিকর এটা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজন বোধে সানস্ক্রিম ও ছাতা ব্যবহার করতে পারি। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার ও সঠিক পরিচর্যা এবং সচেতনতার মাধ্যমে আমরা মেছতা দূর করতে পারি।

আপনার আসলেই দেশি ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। মেছতা দূর করার ১০টি উপায় | মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায় এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url