ব্লাড ক্যান্সার হলে কি হয় | ১০টি ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায়

ব্লাড ক্যান্সার মানেই মৃত্যু এমনটা আগে মনে করা হতো। ব্লাড ক্যান্সার হলে কি হয়? ১০টি ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায়।

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দেশি ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ব্লাড ক্যান্সার হলে কি হয় | ১০টি ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

ব্লাড ক্যান্সার হলে কি হয় | ১০টি ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আরো জানতে গুগলে সার্চ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েব সাইটে অন্যান্য পোস্টগুলো পড়তে পারেন। তো চলুন আমাদের আজকের মূল বিষয়বস্তুগুলো এক নজরে পেজ সূচিপত্রতে দেখে নেয়া যাকঃ

আজকে আমরা জানাবো ব্লাড ক্যান্সার বা রক্তের ক্যান্সার সম্পর্কে। ক্যান্সারের কথা শুনলেই আমরা কেমন জানি আঁতকে উঠি অজানা একটি ভয় কাজ করে মনের মধ্যে। যদিও আমরা জানি যে ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় ভালো হয়। তারপরও একটি ভয় কাজ করে মনের মধ্যে।

ব্লাড ক্যান্সার হলে কি হয় | ১০টি ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায়

ব্লাড ক্যান্সার কি? ব্লাড ক্যান্সার কত প্রকার

আমরা জানি শরীরের রক্তের কোষ বা সেল তৈরি হয় বণ মেরু থেকে। রক্তে সাধারণত তিন ধরনের কোষ বা সেল থাকে। একটা হলো লোহিত রক্তকণিকা বা আর বিসি যার মধ্যে হিমোগ্লোবিন থাকে। আরেকটা হল শ্বেত রক্ত কণিকা যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

আবার আরেকটা হল অনুচক্রিকা বা প্লাটিলেট যা এখন ডেঙ্গুর কারণে সবাই জানে। আমাদের শরীরে যদি কোথাও কেটে যায় তাহলে সহজে রক্ত বন্ধ হতে চায় না প্লেটলেট কমার ফলে। প্লেটলেট কমার ফলে শরীরে ইনফেকশন জনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

মানুষের শরীরে একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় এসব সেল তৈরি হয় এবং মারা যায়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া আমাদের শরীরের কোন কারনে যদি এ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাহলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাই ব্লাড ক্যান্সার।

আবার অন্যভাবে বলা যায় কোন কারনে শরীরে শ্বেত কণিকা বা ব্লাড সেল অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেড়ে যাওয়া হল ব্লাড ক্যান্সার। ব্লাড ক্যান্সার সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে।

  • লিউকেেনিয়া: ব্লাড ক্যান্সার যা রক্তের শ্বেত কণিকা বৃদ্ধির ফলে হয়ে থাকে।
  • লিম্ফোমা: এটি চিহ্নিত করতে বায়োপসি করতে হয়।
  • মাল্টিপল মাইলোমা: এই রোগটি সাধারণত বয়স্কদের হয়ে থাকে।

ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো কী কী?

প্রথমে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাবে। রক্তে প্লাটিলেট এর পরিমাণ কমে যাবে ফলে কোথাও কেটে গেলে সহজে রক্ত বন্ধ হবে না। রক্তের শ্বেত কণিকা কমে যাবে এর ফলের রোগ প্রতিরোধ হবে না।

ঘন ঘন জ্বর হবে। রোগী ক্লান্তি অনুভব করবে। হাত পা শরীরে ব্যথা অনুভব হবে। অ্যানিমিয়া বেড়ে যাবে। দাঁতের মাড়ি, নাক অথবা পিরিয়ডের সময় রক্ত পাত বেশি হবে এই সবগুলো লক্ষণ যদি একসঙ্গে দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ।

ব্লাড ক্যান্সার এর লক্ষণ কি কি?

হঠাৎ করে শরীরের ওজন কমে যাবে। কোন আঘাত ছাড়াই শরীরে কালচে  দাগ দেখা দিবে। মাথার চুল পড়ে যাবে। খাওয়ায় অনীহা প্রকাশ করবে। হঠাৎ করে ঘুমের মধ্যে মলের চাপ আসতে পারে এইসব বিশেষ লক্ষণ ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ।

ব্লাড ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ

ব্লাড ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হল রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া। প্লেটলেট কমে যাওয়া। ঘন ঘন জ্বর হওয়া ইনফেকশন হওয়া। দাঁতের মারি, নাক ,মল মূত্রে সঙ্গে রক্ত যাওয়া  ব্লাড ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ।

ব্লাড ক্যান্সার হলে কি হয়

ব্লাড ক্যান্সার হলে সাধারণত শরীরে খুব দুর্বলতা অনুভব হয়। কোন কিছু খাওয়ার রুচি হয় না ভালো লাগে না বসে থেকে হঠাৎ করে দ্বারা হলে মাথা ঘুরে অথবা চোখে অন্ধকার দেখে। ব্লাড ক্যান্সার হলে এসব কিছু হয়।

ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির দশটি উপায়

উপরোক্ত লক্ষণ ও সমস্যাগুলো যদি আমাদের শরীরে দেখা যায় তাহলে অবশ্যই আমরা নিকটবর্তী হেমাটোলজিস্ট বা ব্লাড ক্যান্সারের ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে হবে।

  1. ব্লাড ক্যান্সারের প্রথম সাধারণ চিকিৎসা হলো ওজন কমানো। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম এর ফলে আমরা আমাদের শরীরের ওজন কমাতে পারি এটি সহায়ক ব্লাড ক্যান্সারের সাধারণ চিকিৎসা হিসেবে।
  2. নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়মিত ব্যায়াম। হল ব্লাড ক্যান্সারে আরো একটি সাধারন চিকিৎসা একটি রিসার্চে দেখা গেছে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের ক্যান্সার অনেক অংশে ভালো থাকে এবং শরীরের কষ্ট কম হয়।
  3. স্বাস্থ্যকর খাবার, স্বাস্থ্যকর খাবার হল ব্লাড ক্যান্সারের সাধারণ চিকিৎসার একটি দিক।
  4. দেখা গেছে যারা সবুজ শাকসবজি নিয়মিত পরিমাণমতো খেয়ে থাকে তারা কম আক্রান্ত হয় ব্লাড ক্যান্সারে আবার যারা শুধু মাংস ও মাছ খেয়ে আছে তাদের ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেশি। খাবার কম খেয়েও আমরা ব্লাড ক্যান্সারের সাধারণ চিকিৎসা করতে পারি।
  5. স্বাস্থ্য সেবার একটি ওয়েবসাইটে গবেষকগণ লিখেছে  ধূমপান বিশেষ কারণ ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার। ধূমপান না করে বা ধুম পান থেকে বিরত থেকেও আমরা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি। এটি একটি সাধারণ চিকিৎসা ব্লাড ক্যান্সারের।
  6. অ্যালকোহল একটি বিশেষ কারণ ব্লাড ক্যান্সারের। অ্যালকোহল  সেবনের ফলে আমাদের শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই অ্যালকোহল সেবন না করে বা অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকে আমরা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি এটি একটি সাধারণ চিকিৎসা ব্লাড ক্যান্সারে।
  7. কেমোথেরাপি ও একটি সাধারন চিকিৎসা ব্লাড ক্যান্সারের। কেমোথেরাপি দিয়েও আমরা ব্লাড ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি।
  8. এছাড়াও রেডিও থেরাপিতে ও ব্লাড ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যেতে পারে। এটি একটি সাধারণ চিকিৎসা ব্লাড ক্যান্সারের।
  9. বন মেরু ট্রান্সফার এটার মাধ্যমে ব্লাড ক্যান্সার পুরোপুরি  সেরে যায়। এটি একটি সাধারণ চিকিৎসার লাভ ক্যান্সার।
  10. মেডিসিন বা ঔষুধ সেবনের মাধ্যমেও ব্লাড ক্যান্সার পুরোপুরি ভাবে সেরে যায় এটি একটি সাধারণ চিকিৎসা ব্লাড ক্যান্সারের।
তবে সচেতনতা স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। অ্যালকোহল সেবন না করা পর্যাপ্ত পরিমাণে সুষম খাদ্য খাওয়া। নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমেও আমরা ব্লাড ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করতে পারি। এটি একটি সাধারণ চিকিৎসা ব্লাড ক্যান্সারের।

ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা খরচ

ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসার খরচ একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এটি সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তবে যদি এটা করা যায় তাহলে অনেকেই সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হতে পারে। ও ব্লাড ক্যান্সারের যে শারীরিক কষ্ট  হয় সেগুলো থেকে মুক্ত থাকবে।


ব্লাড ক্যান্সারের হোমিও চিকিৎসা

ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা একটি ব্যয়বহুল খরচ যা সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে যারা জড়িত তাদের এই খরচ ব্যয় করার সামর্থ্য নেই তারা কি শুধু শারীরিক কষ্টই পাবে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে ব্লাড ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে সেরে না গেলেও রোগীর শারীরিক কষ্ট অনেক অংশে কমে আসে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে। আবার এটা সামর্থের মধ্যেই।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা অনেকদিন যাবত সুস্থ থাকতে পারি। শারীরিক কষ্ট অনেক অংশে কমে যায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে। তাই আমরা ভয় না পেয়ে ব্লাড ক্যান্সারের সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে ব্লাড ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি।


ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায়

ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় আমরা যদি ঠিক সময়ে সঠিকভাবে ব্লাড ক্যান্সার নির্ণয় করতে পারি এবং এটার সঠিক চিকিৎসা নিয়ে ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে পারি।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায় যে, ব্লাড ক্যান্সার হল আমাদের শরীরের রক্তের শ্বেত কণিকা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। আর এটা থেকে মুক্তির উপায় হল স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং সচেতনতাই প্রধান উপায় ব্লাড ক্যান্সার প্রতিরোধের।

আপনার আসলেই দেশি ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। ব্লাড ক্যান্সার হলে কি হয় | ১০টি ব্লাড ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url