ব্যায়াম ছাড়া ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর উপায়

পেটের চর্বি কমানোর বৈজ্ঞানিক উপায় - গবেষণায় প্রমানিত, ব্যায়াম ছাড়া ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর উপায়.

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দেশি ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ব্যায়াম ছাড়া ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

ব্যায়াম ছাড়া ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর উপায় সম্পর্কে আরো জানতে গুগলে সার্চ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েব সাইটে অন্যান্য পোস্টগুলো পড়তে পারেন। তো চলুন আমাদের আজকের মূল বিষয়বস্তুগুলো এক নজরে পেজ সূচিপত্রতে দেখে নেয়া যাকঃ

ভুড়ি বা পেটের চর্বির জন্য অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভুগেন। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে যাদের পেট অতিরিক্ত মোটা বা পেটে চর্বি বেশি তাদের বিভিন্ন রোগ বালাই হওয়ার যুকি রয়েছে। পেটের ভুড়ি কমানোর জন্য অতিরিক্ত  চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই আপনার প্রতিদিন এর কাজের মাঝেই কিছু পরিবর্তেনর ফলে খুব সহজে ভুরি কমাতে পারেন।

ব্যায়াম ছাড়া ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর উপায়

ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর আগে জানতে হবে কি কি কারনে পেটে ভুড়ি বা চর্বি বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণার উপর বিত্তি করে বেশ কয়েকটি কারণে পেটে ভুড়ি বা চর্বি বেড়ে থাকে। যেমনঃ

সপ্ট ড্রিংক বা চিনি মিশ্রিত খাবার

চিনি মিশ্রিত খাবার পেটে ভুড়ি বা চর্বি বাড়াতে অনেক বড় একটি ভুমিকা পালন করে। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার খাওয়ার জন্য নানান ধরনের রোগ বালাই হওয়ার যুকি রয়েছে। এছাড়া সপ্ট ড্রিংক এ নরমাল চিনি যুক্ত খাবার এর থেকেও অধিক চিনি থাকে। বিভিন্ন কেমিক্যাল এর কারনে সপ্ট ড্রিংকে থাকা চিনির সাদ পাওয়া যায় না এ ক্ষেত্রে আপনি বোঝতেও পারবেন না ঠিক কতটুকু  চিনি খেলেন।

আনমনে খাওয়া(টিভি বা মোবাইল দেখে খাওয়া)

টিভি বা মোবাইল দেখে খাওয়ার সাথে ভুড়ি বাড়ার কোনো সমপর্ক নেই। এখানে ভুড়ি বাড়ার বিষয় টি হলো আমরা অনেক সময় টিভি বা মোবাইলে কিছু দেখতে দেখতে খাবার খাই যার ফলে আমাদের মনোযোগ খাবার এর মধ্যে থাকে না তাই প্রয়োজনের থেকে বেশি খেয়ে ফেলি। বেশিরভাগ  সময়ে টিভি বা মোবাইল দেখে চানাচুর, চিপস, বিস্কিট ইত্যাদি খেয়ে থাকি আর খাবার এর দিকে মনোযোগ না থাকায় আমরা সেই খাবার বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলি। এতে করে আমাদের পেটের ভুড়ি বা চর্বি বেড়ে যায়।

কম ঘুমানো

আমাদের মাঝে প্রায় সবাই জানি ঘুমের সাথে ভুড়ি বাড়ার সমপর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা সারাদিনে ৭ ঘন্টার কম ঘুমায় তাদের পেটের ভুড়ি বা চর্বি বেড়ে যায়। তার কারণ হচ্ছে এদের মধ্যে অনেকেই রাত জেগে অফিস এর কাজ করে, কেউ টিভি দেখে বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বেশি রাত করে ঘুমানোর কারণে এদের মধ্যে প্রায় সবারই খিদে লাগে আর গভীর রাতের খাবার গুলো সাধারণত চিপস,ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত এইসব হয়ে থাকে যা পেটের ভুড়ি বা চর্বি বাড়িয়ে দেয়। 

অনেকটা সময় এর জন্য এক যায়গায় বসে বা শুয়ে থাকা 

অনেক এই আছে যারা অনেকটা সময় এর জন্য এক যায়গায় বসে থাকে। এমনটা বেশির ভাগ বিভিন্ন  অফিস বা কর্মস্থলে দেখা যায়। যারা কি না সারাদিন এক যায়গায় বসে থাকে সেখানেই খাবার খায় খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ওঠে না। এছাড়াও সারাদিন শুয়ে বসে থাকার কারনেও ভুড়ি বা চর্বি বেড়ে থাকে। যেহেতু সারাদিন এক যায়গায় বসে বা সুয়ে থাকে তাই শারীরিক ভাবে কোনো পরিশ্রম না হওয়ায় ভুড়ি বা চর্বি বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত কার্ব জাতীয় খাদ্য (ভাত, রুটি, আলো)

আমাদের শরীরের জন্য কার্ব জাতীয় খাদ্য অনেক প্রয়োজনীয়। তবে প্রতিদিন এই সকল খাদ্য অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে আমাদের শরীরে যত টুকু প্রয়োজন ততটুকু তো গ্রহণ করবে কিন্তু অবশিষ্ট খাবার আমাদের শরীরে কার্বহাইড্রেট এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কার্বহাইড্রেট এর মাত্রা বেড়ে গেলে সেটা চর্বিতে রুপান্তরিত হয়ে ভুড়ি বেড়ে যাবে।গবেষণায় দেখা গেছে সাদা চাল বা সাদা রুটি প্রতিদিন ৫০ গ্রামের বেশি খেলে ভুড়ি বেড়ে যায়।

ভুড়ি বা পেটের চৈর্বি বাড়ার কারণ তো জানতে পারলাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে আমার পেটের ভুড়ি বা চর্বি কমাবো? গবেষণায় পেটের ভুড়ি বা চর্বি কমানোর অনেকটি উপায় রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে অভ্যাস করলে খুব সহজে পেটের ভুড়ি বা চর্বি কামনো যাবে। যেমনঃ

খাবার খাওয়ার পর হাটাহাটি করা

আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা খাবার খাওয়ার পরেই শুয়ে থাকে। ভুড়ি কমাতে চাইলে আপনাকে এই অভ্যাসটি বাদ দিতে হবে। খাবার খাওয়ার পর যদি শুয়ে থাকেন তাহলে আপনার খাবার ভালোভাবে ডাইজেস্ট হবে না। খাবার ডাইজেস্ট না হলে সেটা পেটে চর্বি বাড়িয়ে দিবে। তাই খাবার খাওয়ার পর ৫-১০ মিনিট সময় হাটার চেস্টা করি। হাটাহাটির জন্য বাহিরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই আপনি আপনার রুমে বা বারান্দায় হাটতে পারেন।

পেকটিন বা জেলি জাতীয় খাবার

ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর জন্য পেকটিন বা জেলি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। অর্থ্যাৎ যে খাবারের পেকটিন থাকে সে সকল খাবার খাওয়া। আপেল,পেয়ারা,স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফলে পেকটিন থাকে। এইসব ফল খাওয়ার পর পেটে পানি বা লিকুইড শুষন করে জেলির মতো হয় যার জন্য অল্প খাবার খাওয়ার পরেও পেট ভরে যায়। পেকটিন জাতীয় খাবার খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরিও থাকে না।

 কুসুম গরম পানি খাওয়া

ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর জন্য কুসুম গরম পানি খেতে পারেন। আপনি দিনে যতবার খাবার খাবেন ঠিক তত গ্লাস কুসুম গরম পানি আপনার খাবার তালিকায় রাখবেন। যেমন আপনি যদি দিনে ২ বেলা খাবার খেয়ে থাকেন তাহলে ২ গ্লাস আর ৩ বেলার জন্য ৩ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করবেন। কুসুম গরম পানিতে আপনি চাইলে লেবুর রস মেশাতে পারেন।

প্রতিদিন এর কাজের মাঝে কিছু সহজ কাজে অভ্যাস করতে পারেন

আপনি ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর জন্য সারাদিন এর কাজের মধ্যে কিছু কাজ যুক্ত করতে পারেন। যেমন ফোনে কারো সাথে কথা বলার সময় হেটে হেটে কথা বলবেন।গাড়ি নিয়ে শপিং করতে বা কোনো প্রয়োজনে কোথাও গেলে সেটা একটু দূরে পার্কিং করবেন যাতে কিছুটা রাস্তা হাটতে পারেন। এই ধরনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাস ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

আপনি আপনার পেটের ভুড়ি বা চর্বি কামানো জন্য এই সকল কাজ গুলো করতে পারেন। এইসব কাজের মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুত ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমাতে পারবেন।

আপনার আসলেই দেশি ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। ব্যায়াম ছাড়া ভুড়ি বা পেটের চর্বি কমানোর উপায় এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url